Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়,প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

কাস্টোডিয়ানের কার্যালয়, রংপুর  জাদুঘর,তাজহাট জমিদার বাড়ি, রংপুর।

 

তাজহাট জমিদার বাড়িটি রংপুর শহর থেকে প্রায় ৬ কিঃমিঃ পূর্ব দÿÿণ কোণে বর্তমানে কৃষি ইনষ্টিটিউট এর পার্শেব সবুজ গাছপালা পরিবেষ্টিত আকর্ষণীয় পরিবেশে অবস্থিত। জমিদার বাড়ির সামনে রয়েছে সমসাময়িক কালে খননকৃত বিশল আকৃতির ৪টি পুকুর। সান বাধা ঘাট(পাকা করা) ওয়ালা বড় পুকুরটি কৃষি ইনষ্টিটিউটের বর্তমান সীমানা প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত।

 

মোঃ মনিরম্নজ্জামান এর রঙ্গপুরের ইতিহাস পুসিত্মকা থেকে জানা যায় যে, মান্নলাল রায় সুদূর পাঞ্জাব হতে রঙ্গপুরের মাহিগঞ্জে হিরা,জহরত ও স্বর্ণ ব্যবসারজন্য এসেছিলেন । প্রথমে তিনি নানা ধরণের নামী দামী হীরা,মানিক,জহরত খচিত তাজ বা টুপির ব্যবসা করেছিলেন । উক্ত তাজ বিক্রয় লÿÿ্য এখানেহাট বসে যা পরর্বতীতেবিরাট প্রসিদ্ধ লাভ করে এবং পরবর্তীতে এ তাজহাটকে কেন্দ্র করে এই জমিদারবাড়ির নামকরণ হয় তাজহাট জমিদার বাড়ি ।

 

তাজহাট জমিদার বাড়িটির প্রধান প্রকোষ্ঠটির পরিমাপউত্তর ও দÿÿণে ৪৪.২০মিঃলম্বা এবং উত্তর-দÿÿণের প্রকৌষ্ঠটির পূর্ব ও পশ্চিমের অংশের পরিমাপ ৩৭.৫০ মিঃ X৩৬.৫০মিঃলম্বা । দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য তিনটি অভিগমন পথ রয়েছে তৎমধ্যে মধ্যের অভিগমন পথটি অপেÿাকৃত প্রশসত্ম । মধ্যের অভিগমন পথের প্রতিটি ধাপে সুন্দর মসৃণ সাদা ও ছাই রংয়ের পাথরেরটাইলস বিছানো। বারান্দাটি সম্পূর্ণ মেঝে অনুরম্নপ পাথরেরটাইলসবিছানো। প্রথমতলার ছাদ নির্মাণে বড়বড় লোহার ভীম ব্যবহার করা হয়েছে।

 

নিচতলার বা গ্রাউন্ড ফ্লোরের অংশটিতে ৪টি কÿদেখাযায় এবং এতে সর্বমোট ১১ জোড়াকপাট বিশিষ্ট দরজা দেখ যায় এ প্রাসাদের প্রকোষ্ঠগুলোতেও অনুরম্নপভাবে পূর্বের অংশে ৭টি প্রবেশ দ্বারসমন্বিত ৩টি বড় বড় কÿএবং পশ্চিম অংশে ৬ জোড়া কপাট বিশিষ্ট দরজাসহ বিরাট ১টি হলরম্নম রয়েছে । এ অংশের প্রায় মধ্যভাগে একটি প্রবেশ ও বহির্পথ ছিল।যা পরবর্তীতে নিরাপত্তা জনিত কারনে বন্ধ করে দেয়া হয়।

 

ইমারতটির উত্তর অংশের মাঝামাঝি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠা-নামার জন্য সুন্দর কাঠের তৈরি ২২টি ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়ি দেখাযায় এবং দÿÿণের প্রাসাদের প্রকোষ্টটিতেও দ্বিতীয় তলায় ওঠানামার জন্য লৌহ নির্মিত নকশাকৃত (ঝুলমত্ম) মজবুত সিঁড়ি রয়েছে । সিঁড়িগুলোর রেলিং সুন্দর লৌহ নির্মিত। যা ফুলগাছের মতো দেখা যায় ।

 

সম্মুখসত্ম প্রধান প্রাসদটির দ্বিতীয় তলায় ওঠা-নামার জন্য একটি বিরাট গ্যালারির মতো সিঁড়ি রয়েছে ।সিঁড়িটিকে তিনটি সত্মরে বিভক্ত দেখা যায় । প্রথম সত্মরে ১টি ধাপ বিরাজমান ২য় সত্মরে ওঠার সময় একটু সমান অবস্থান নেমে আবার ১৪টি ধাপ অতিক্রম করে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন আয়তাকার পস্নাট ফরমে ওঠা যায় যা দ্বিতীয় তলার ছাদের সাথে সম্পৃক্ত যাকে ৩য় সত্মর হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে ।

 

এ বৃহদাকার সিঁড়িপরিমাপ দৈর্ঘ প্রায় ২০.১০মিঃপ্রস্থ ১০.৬মিঃএবং প্রশসত্ম উপরের দিকে ১৪.৯৫ মিঃএবং ক্রমান্বয়ে পরিমাপ কমিয়ে তা ১০.৬মিঃপর্যমত্ম প্রশসত্ম রাখা হয়েছে । সিঁড়িটি ভূমি থেকে দ্বিতীয় ভবনের ছাদ পর্যমত্ম সম্পূর্ণ অংশ সুন্দর মসৃণ সাদা-কালো পাথরের টাইলস পিছানোএবং সম্পূর্ণ অÿত অবস্থায় রয়েছে ।

 

এ বিরাট সিঁড়িটির ডান ও ,বামে উভয় পার্শ্বে আলোর ব্যবস্থাপনার উন্নতিকল্পে শোভাবর্ধনকারী(টেবিল টরের আকৃতি বিশিষ্ট ) একটি লৌহ নির্মিত আধার প্রথম সত্মরের রেলিং-এ ব্যবহার করা হয়েছে।আবার রেলিং-এর মধ্য ভাগে ব্যালষ্টারের ব্যবহার লÿ্য করা যায় । প্রধান সত্মরে এসেও একই উদ্দেশ্যে লৌহ নির্মিত ক্রুসাকৃতিদু’টি দন্ডাধার এখনও সিঁড়ির রেলিংয়েসন্নিবেশিত রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে বড়বড় বাল্ব স্থাপনের ব্যবস্থা লÿ্য করা যায় । প্রাসাদের সম্মুখ ভাগের উত্তর ও দÿÿণ কোণে সৌর্ন্দয বৃদ্ধির জন্য দু’দিকে দু’টি লম্বা উঁচু গোলাকার পিলার রয়েছে এবং পিলারের শীর্ষদেশে সাপের ফনারমতো একামত্মাজ পত্রের দ্বারা সুশোভিত দেখা যায় । এছাড়া দ্বিতল অংশের মধ্যভাগ ছাড়া বাকি দু’টো প্রবেশ দ্বারের সাথে সুন্দর বেলকনি দেখা যায় । বেলকনিতে ছোট ছোট পাথরে নির্মিত পিলাস্টার রয়েছে এবং উপরিভাগে সুন্দর ফুলের অলংকরণ দেখা যায় । তার উপরেই অপর একটি ত্রিকোণাকার কÿদেখা যায় যার ছাদের উপরে ছোট গম্বুজের আকৃতি বিশিষ্ট । এ ছোট কÿÿর বাইরের দিকেডোরাডেরিক পিলারের উপরে একামত্মাজ পত্র দ্বারাসুশোভিত । এ কÿÿর ভিতর দিক দিয়ে প্রবেশের পথ থাকলেও বাইরের দিক থেকে শুধু জানালার অবস্থানটুকু দেখা যায় । প্রাসাদের ছাদের মধ্যভাগে অপর একটি অষ্টাকোণাকৃতি ছোট কÿদেখা যায়।যার নির্মাণে গম্বুজের ব্যবহার করা হয়েছে এবং দেখতে অনেকটা ছড়ানো ছাতার মতো,যাকে আমব্রেলা আকৃতির গম্বুজ বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে । সম্ভবত: এ কÿটি রাজা-রানীদেরআয়েশ কÿহিসেবে ব্যব‎‎হৃত হতো । সম্পূর্ণ প্রাসাদের প্যারাপেটে ব্যালষ্টারের ব্যবহার দেখা যায় এবং তার নিচে দেখা যায় (টিথ ডিজাইন) দাঁতের সারির মতো অলংকরণ । এছাড়া প্রাসাদে ব্যবহার্য প্রতিটি কোণার পিলারকে ব্যান্ড দ্বারা শোভিত দেখা যায় । প্রাসাদের সম্মুখস্থ বিভিন্ন অংশে করিনথিয়েন এবং ডোরিক পিলারেরব্যবহার করে প্রাসাদের গাম্ভীর্যকে অর্থবহ ও ব্যাপকতর করা হয়েছ ।

 

অধিকাংশ প্রবেশ দ্বারের আকৃতি অর্ধগোলাকার । যা শোভা বৃদ্ধিতে বিশেষ করে প্রাসাদের সম্মুখস্থ প্রকোষ্ঠের কিনারায় ব্যান্ডের ব্যবহার মোগল স্থাপত্য পদ্ধতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় । আবার পিলারগুলো গঠনে রোমান- করিয়েনথেও একামেত্মজের ব্যবহারসহ ডোরিক পিলারের সন্নিবেশ রোমান স্থাপত্য প্রযুক্তি অনুকরণের পথকে চিহ্নিতকরেছে । তাছাড়া প্যারাপেট ও ব্যালষ্টারের নিচে টিথ ডিজাইন প্রকৃতির বৃটিশ স্থাপত্য শৌকর্যের অনুরম্নপ বলে ধরা যায় । এ বিশাল প্রাসাদে সর্বমোট ২৬টি কÿরয়েছে।বর্তমান অত্র এলাকার অবস্থা অত্যনতমনোমুগ্ধকর এবং সত্মব্ধ নিঝুম সবুজের সমারোহে সমুজ্জল ও বৃহৎ বৃÿরাজি পরিবেষ্টিত পরিবেশে প্রাসাদটি স্বগর্বে দন্ডায়মান ।

ছবি